মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ০১:০৪ অপরাহ্ন
৩৫.০৮ °সে

জাতীয়


সহকর্মীদের কাঁদিয়ে বিদায় নিল সোহেল !

ফাইল ছবি

সহকর্মীদের কাঁদিয়ে বিদায় নিল সোহেল রানা। দীর্ঘ পাঁচ বছর একই সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলেও আর কোন সাইরেনের আওয়াজ শুনবে না সোহেল।কখনো খাওয়া শেষ না করে, কখনো বা প্রিয়জনের সাথে মোবাইলে কথা বলার মাঝখানে লাইন কেটে মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য আর দৌড়াবে না ! 

দায়িত্ব আর কর্তব্যের সাথে যে ইচ্ছা শক্তি ও মানষিকতা কতটুকু প্রয়োজন তা দেখিয়ে দিয়েছে সোহেল রানা।এমন একজন সাহসী সোহেল শুধু ফায়ার সার্ভিসে কাজ করলেই পাওয়া যায় না । নিজের জীবন বাজি রেখে অন্যের জীবন বাচাঁনোর যে প্রয়াস তা অর্থের অংকে পরিমাপ করা যাবে না।আগুনের লেলিহানকে ্উপেক্ষা করে যে সামনের দিকে এগিয়ে কোন এক প্রাণের বিনিময়ে নিজের প্রাণ বিলিয়ে দেয়, সেইতো প্রকৃত যোদ্ধা,প্রকৃত বীর।এমন কিছু যোদ্ধারা আছে বলেই আমরা আড়াই কোটি মানুষ এত ঝুঁকির মাঝেও ঢাকা শহরে বেঁচে থাকার সাহস করি।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিল সোহেল রানা।অভাবের টানে এলাকায় টমটম চালিয়ে এইচ এস সি পাশ করেন সোহেল। ২০১৪ সালে মহান এই পেশায় যোগ দিয়ে মানুষের সেবার পাশাপাশি পরিবারের অভাব দূর করবেন এমনটাই আশা ছিল সোহেলের।কিন্তু কর্ম জীবনে পাঁচটি বছরের মাথায় তার স্বপ্ন ধুলিস্যাত হয়ে যায়।না পারলো নিজের স্বপ্ন বাঁচাতে, না পারলো মায়ের স্বপ্ন বাঁচাতে !

একজন উপার্জনক্ষম ব্যক্তি যে কোন পরিবারের কাছেই বীর।সেই বীরতুল্য সোহেলকে হারিয়ে পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস আজ বন্ধ হয়ে গেল।একদিকে সন্তান হারানোর বেদনা অন্যদিকে না খেয়ে থাকার অনিশ্চিত ভবিষ্যতের হাতছানি।সব মিলিয়ে নিঃস্ব সোহেলের পরিবার ! 

এমন এক বীরের জন্য নিশ্চিয় বাংলাদেশ সরকারের উদার হাত বিলিয়ে দিবে তার পরিবারের দিকে।সন্তানের অভাব হয়তো কোন কিছুর বিনিময়ে পূরণ করা যাবে না, কিন্তু সন্তান হারানো পরিবারের দুই বেলা খাওয়ার অভাবতো দূর করা যেতে পারে !

উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ বনানীর এফআর টাওয়ারের ভয়াবহ আগুনে ঘটনাস্থলে ২৫ জন ও হাসপাতালে একজন নিহত হন। আগুনের ঘটনায় উদ্ধার অভিযানে গিয়ে আহত ফায়ার সার্ভিসকর্মী সোহেল রানা সিঙ্গাপুরে জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

আজ মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১টায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ফুলবাড়িয়ার সদর দফতরে ফায়ার সার্ভিস কর্মী সোহেল রানার লাশ আনা হলে সহযোদ্ধাদের এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এখানেই সোহেল রানার প্রথম জানাজা সম্পন্ন করে তার পরিবারের সদস্যরা তাকে নিজ গ্রাম কিশোরগঞ্জ’এ নিয়ে যান।

May: Ousting Me Won't Help

Resize the browser window to see.

KFC - Killing Fabulous Chickens
Total time 45:12
Cinque
May: Ousting Me Won't Help
UK POLICIES

মন্তব্যসমূহ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শিরোনাম